- দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
- জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ
- ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশে পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত হামলা, লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
- 🐄🌙 পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কারের আহ্বান 🌙🐄
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।
নাবিল গ্রুপের সাথে জামায়াতকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ
অনলাইন পোর্টাল বাংলা আউটলুকে গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারী “১৩ হাজার কোটি টাকা লুটেও বহাল তবিয়তে নাবিল গ্রুপ, নেপথ্যে জামায়াতের আশকারা?” শিরোনামে প্রকাশিত ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরীর আমীর ড. মাওলানা কেরামত আলী আজ ১৩ ফেব্রুয়ারী প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলা আউটলুক অনলাইন পোর্টালে অনুসন্ধানী রিপোর্টার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে নাবিল গ্রুপের রাজনৈতিক সংস্লিষ্টতা সম্পর্কে যে সব অভিযোগ করেছেন তার কোন ভিত্তি নেই।
বিবৃতিতে ড. মাওলানা কেরামত আলী আরও বলেন, গত ১৮ জানুয়ারী রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর সম্মেলনে লক্ষ জনতার পাশাপাশি রাজশাহীর বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সেই সম্মেলনে রাজশাহী মহানগরীর আমীরের অজ্ঞাতসারে নাবিল গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম স্বপন মঞ্চে উঠে পড়েন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোন পর্যায়ের কর্মী নন। নাবিল গ্রুপের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং এসকল প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋনও একান্ত তার নিজস্ব এবং এর ভালো মন্দের দায়ও একমাত্র তার নিজের। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে এর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গণমানুষের দল। জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে মুলত জনগণের নিকট জামায়াতে ইসলামীকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমি বাংলা আউটলুক অনলাইন পোর্টালের এই প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আশা করছি যে, পোর্টালটি আমার এ প্রতিবাদটি সকলের জানার জন্য যথাস্থানে ছাপিয়ে সাংবাদিকতার নীতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন এবং এর মাধ্যমে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে।”
একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে আগে দেশ থেকে ১৫ বছরের জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে : মোবারক হোসাইন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি; নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে মাত্র। নতুন প্রজন্ম যাদের বয়স ৩০/৩৫ বছরে হয়েছে তারা এখন পর্যন্ত কোনো ভোট দিতে পারেনি। একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে আগে দেশ থেকে ১৫ বছরের জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে; পাশাপাশি প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী দোসরদেরকে সরাতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার করা না হলে এই নতুন প্রজন্ম ভোট প্রদানের ব্যাপারে আশাহত হয়ে পড়বে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যতটুকু মৌলিক সংস্কার হওয়া প্রয়োজন, সেই সংস্কারটুকু সম্পন্ন করেই যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংসদ নির্বাচন দেওয়া উচিত।
১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগরী উত্তরের মুহাম্মাদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলানগর অঞ্চল জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড দায়িত্বশীলগণের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম। উপস্থিত ছিলেন থানা আমীরবৃন্দ যথাক্রমে মোঃ মাসুদুজ্জামান, মোহাম্মদ মশিউর রহমান, মোঃ আব্দুল হান্নান, মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল আযম, মোঃ আল-আমিন সবুজ, মোঃ মশিউর রহমান। অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল ওয়াজিদ কিরন ও ডাক্তার শফিউর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশের সভাপতি ড. রেজাউল করিম বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা করে অন্যের ঘাড়ে চাপানোর অপকৌশল হাতে নিয়েছে। এ ব্যাপারে ছাত্র-জনতাকে সচেতন থাকতে হবে। কিছুতেই তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত নস্যাৎ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে গণ মানুষের সংগঠনে পরিণত করতে হবে। এজন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ব্যাপক ভিত্তিক দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। এ সময় তিনি ২০২৫ সালের সাংগঠনিক পরিকল্পনা দায়িত্বশীলগণের মাঝে বুঝিয়ে দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজাকে জাহান্নাম বানানোর হুমকি দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেনঃ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
নির্বাচন কমিশনের সাথে জামায়াতে ইসলামীর বৈঠক অনুষ্ঠিত
আমীরে জামায়াতের আগমন উপলক্ষ্যে আইনজীবীদের জেলা ও মহানগরী জামায়াত নেতৃবৃন্দের মত বিনিময়
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াত ইসলামীর আমীর আব্দুল জব্বার বলেছেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে তারা সকলেই আমাদের সকলের শক্তি। তাদের ঋণ পরিশোধ করতে চাইলে জাতির মধ্যে কোনো অনৈক্য থাকার সুযোগ নাই। এজন্য আমাদের জনসভা সমাবেশ মিটিং মিছিল সবকিছুর মূল হচ্ছে জাতিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করা এবং এক চিন্তা মতের ভিত্তিতে পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। এটা করতে পারলে বাইরের কোনো কূটকৌশল পরিকল্পনা দেশের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া সংলগ্ন এলাকায় এক প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী থানার উদ্যোগে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।
আব্দুল জব্বার বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য যে ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত ইসলামী বলছে। সেই স্লোগানের অগ্রনায়ক হিসেবে বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামীর আমীরে জামায়াত সারাদেশের মানুষের মধ্যে স্বপ্ন জাগিয়েছেন। সেই স্বপ্নের সাথে মানুষ একাকার হয়ে স্লোগান তুলেছে আমাদের নেতা চাই আমানতদার ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এ ধরণের নেতাকে দিনের ভোট দিনে দিয়ে নির্বাচিত করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, সেই জায়গাকে শক্তিশালী করার জন্য আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পৌর স্টেডিয়ামে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। অনেকেই বলছেন সেদিন কি পরিমাণ মানুষ হবে কল্পনা করতে পারছি না। আগে যারা খেলা হবে বলেছিলো তাদের পোগ্রামে ১০ থেকে ১৫ হাজারের বেশি লোক হয়নি। তাদের উপস্থিতি ছিলো গার্মেন্টস বন্ধ করে খেটে খাওয়া মানুষদেরকে জোর করে এনে পোগ্রামে নিয়ে আসতো। আমরা কোনো খেলা হবে বলবো না। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ইসলামের পক্ষে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের আমীর মমিনুল হক সরকার, মহানগর সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজ মোল্লা, জেলা আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মাঈনুদ্দিন মিয়া, আইনজীবী থানার সভাপতি জাহাঙ্গীর দেওয়ান, সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন, সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান সহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
যানবাহন ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন বেক্সিমকো শ্রমিকদের
গাজীপুরে বেক্সিমকো গ্রুপ ও আশপাশের কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে চন্দ্রা নবীনগর মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় যানবাহন ভাঙচুর এবং কয়েকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
জার্সিতে পাকিস্তানের নাম লিখতে বাধ্য হচ্ছে ভারত!
নিজেদের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক পাকিস্তানের নাম লিখতে আপত্তি জানায় ভারত। যদিও এবার আইসিসির হস্তক্ষেপে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে তারা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জার্সি ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ক্রিকবাজকে বলেন, ‘আইসিসি নির্দেশনা যাই হোক আমরা সেটা অনুসরণ করব।’
ভারতের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড মডেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। এই নিয়মে ভারত তাদের ম্যাচগুলো খেলবে দুবাইতে।
নিজেদের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক পাকিস্তানের নাম লিখতে আপত্তি জানায় ভারত। যদিও এবার আইসিসির হস্তক্ষেপে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে তারা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জার্সি ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ক্রিকবাজকে বলেন, ‘আইসিসি নির্দেশনা যাই হোক আমরা সেটা অনুসরণ করব।’
ভারতের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড মডেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। এই নিয়মে ভারত তাদের ম্যাচগুলো খেলবে দুবাইতে।
মোদিকে নিয়ে স্ট্যাটাস, গুম তিন প্রকৌশলী
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ২০২০ সালে ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান অতিথি করার প্রতিবাদে ফেসবুকে লেখালেখি করায় তিন প্রকৌশলীকে গুম করে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং গুমের সময় অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। গুমের ঘটনায় র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও শনাক্ত করেছেন তারা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ২০২০ সালে ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান অতিথি করার প্রতিবাদে ফেসবুকে লেখালেখি করায় তিন প্রকৌশলীকে গুম করে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং গুমের সময় অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। গুমের ঘটনায় র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও শনাক্ত করেছেন তারা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ২০২০ সালে ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান অতিথি করার প্রতিবাদে ফেসবুকে লেখালেখি করায় তিন প্রকৌশলীকে গুম করে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং গুমের সময় অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। গুমের ঘটনায় র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও শনাক্ত করেছেন তারা।
গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান
সংবাদপত্র ও মিডিয়া দলননীতির প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান
১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর
সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৫ জুন এক
বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে
তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকার ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশে একদলীয় শাসন
কায়েমের লক্ষ্যে বাকশাল গঠন করে করে দেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে
পাঠিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সেই বাকশালী সরকার ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন দৈনিক
বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ অবজারভার-এ চারটি সংবাদপত্র
সরকারি নিয়ন্ত্রণে চালু রেখে বাকী সকল সংবাদপত্রের প্রকাশনা বাতিল করে দিয়ে
সংবাদপত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। ফলে হাজার হাজার
সাংবাদিক, কর্মচারী ও কর্মকৌশলী বেকার হয়ে পড়েছিল। বেকারত্বের অভিশাপ মাথায়
নিয়ে সাংবাদিক-কর্মচারী ও কর্মকৌশলীগণ পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে
মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা হরণের ক্ষেত্রে
বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত।
বিবৃতিতে
তিনি আরো বলেন, একইভাবে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই সংবাদপত্র ও
মিডিয়ার উপর দমন-নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দৈনিক আমার
দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার এবং বহু
অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বেশকিছু সংবাদপত্র ও মিডিয়ার প্রকাশনা অন্যায়ভাবে
বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে গত ১৫ বছরে এই সরকারের আমলে হাজার হাজার সাংবাদিক
বেকারত্বের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন ইতিহাসের সবচেয়ে
ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রায় অসম্ভব
হয়ে পড়েছে। অকল্পনীয় হুমকির মুখে পড়েছে সাংবাদিকদের জীবন ও জীবিকা। এ সব
গণবিরোধী কর্মকা-ের মাধ্যমে সরকারের কুৎসিত চেহারাই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে
ফুটে উঠেছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন,
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে বর্তমান সরকার ২০১৮ সালের অক্টোবরে ৩২ ধারা
হিসেবে পরিচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে জঘন্য কালাকানুন তৈরি করে। আইনটি
নিবর্তনমূলক হওয়ায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও দেশি-বিদেশি
সংবাদপত্র সংস্থার চাপের মুখে পড়ে সরকার। সরকার আইওয়াশ হিসেবে আবারো ২০২৩
সালে আগের আইনটির নামে মাত্র কিছু ধারা পরিবর্তন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা
আইন-২০২৩’ নতুন শিরোনাম দিয়ে আরেকটি কালাকানুনের ব্যবস্থা করে। দেশের জনগণ
মনে করে, এই আইনটিও নতুন অবয়বে নিবর্তনমূলক আইন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে
মাত্র।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের
স্বাধীনতা দমনে বর্তমানে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইনটি’ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার
করা হচ্ছে। এই নিবর্তনমূলক কালাকানুনে বহু সাংবাদিক ও মুক্তচিন্তার মানুষকে
হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাঁদেরকে বিনা অপরাধে বছরের পর বছর জেলে আটকে রাখা
হয়েছে। দেশের সকল রাজনেতিক দল, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক সমাজ এ কালো আইনের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও সরকার সেদিকে মোটেই কর্ণপাত করেনি। মূলত
সাংবাদিক সমাজের কলম বন্ধ করতেই সরকার নতুন এই কলাকানুনটি প্রণয়ন করেছে।
সাংবাদিক,
সংবাদপত্র ও মিডিয়ার উপর জুলুম-নিপীড়ন এবং দমননীতি বন্ধ করে দিগন্ত টিভি,
ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার এবং আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনার
উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে সরকারের সংবাদপত্র ও মিডিয়া
দলননীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী
মহলসহ দল-মত-নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”