বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা টুকরা টুকরা জাতি চাই না। বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা আর গডফাদার, গডমাদারদের বাংলাদেশে দেখতে চাই না। মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, আমি যুবকদের বার্তা দিতে চাই, আগামী দিনের বৈষম্যহীন, দুর্নীতি-দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য তোমাদেরকে আরেকবার গর্জে উঠতে হবে। জেগে উঠতে হবে। আমিও তোমাদের সাথে থাকবো ইনশা আল্লাহ। আমার আপাদমস্তক সাদা হলেও ‘নো প্রবলেম’। বুকের ভেতরের কালারটা এখনো তরুণ আমার। মানুষের মুক্তির মিছিলে আমি পিছিয়ে থাকবো না। তোমাদের সামনে থাকবো ইনশা আল্লাহ।
২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার পঞ্চগড় জেলা শহরের চিনিকল মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।
জেলা সেক্রেটারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবদুল হাকিম, ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান, নীলফামারি জেলা আমীর মাওলানা আবদুস সাত্তার, দিনাজপুর জেলার সাবেক আমীর আফতাব উদ্দিন মোল্লা ও মুহাম্মাদ আনওয়ারুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি প্রমুখ।
জনসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মীর মোরশেদ তুহিন, জাগপা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা শ্রী রতন চন্দ্র রায়।
আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড় জেলার নায়েবে আমীর মাওলানা মফিজ উদ্দিন, শহর আমীর মাওলানা জয়নাল আবেদীন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন সরকার, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি জুলফিকার রহমান, বোদা উপজেলা আমীর মাওলানা জাহিদুর রহমান, তেঁতুলিয়া উপজেলা আমীর আবদুল হাকিম, জননেতা শফি উল্লাহ শফি, পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজলদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান, মজলিসে মোফাছছেরীন পঞ্চগড় জেলা সভাপতি মাওলানা মাজেদুর রহমান, হাড়িভাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী। মুল স্টেজের পাশে ছিলেন ২০২২ সালে নৌকাডুবিতে নিহত পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে এম আবু সাঈদের অর্থসহ কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়ে। জামায়াতে ইসলামীর থিমসং পরিবেশন করে সীমান্ত শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য শোনা এবং এক নজর দেখার জন্য মানুষের ঢল নামে পুরো পঞ্চগড় জেলাজুড়ে। জেলার বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ করা হয়। শহর গ্রাম সর্বত্রজুড়ে পোস্টার ব্যানার লাগানো হয়। এদিন সকাল থেকেই মিছিলের শহরে পরিণত হয় পঞ্চগড় জেলা। সকাল দশটার পর জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই পঞ্চগড়ে ২০২২ সালে নৌকাডুবির সময় এসেছিলাম। তখন নৌকাডুবিতে ৭২ জন মারা গিয়েছিল। আমরা চেষ্টা করেছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে যাওয়ার। তখন একটাই ছোট শিশুকে কোলে নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই শিশুটি আজকে এখানে এসেছে। তার নাম দীপু। সে মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে। সাধারণত আমরা যেসব শিশুর দায়িত্ব নেই, তার লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমি দেখলাম আমরা যাওয়ার পরের দিন ওই এলাকার সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং তার স্ত্রী গিয়েছেন। এবং বাচ্চার দায়িত্ব নেন। কিন্তু আজ দীপুর ভাই পরিতোষকে জিজ্ঞেস করলাম- দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিমাসে কি তারা তোমাদের খোঁজ নেয়? বললো জ্বি-না। মাঝে মধ্যে জামা কাপড় দিয়েছে। আমার প্রশ্ন জামা-কাপড় দিলে তারা খাবে কী? তিনি নিশ্চয়তা দেন যে আজ থেকে এই শিশু প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার লেখাপড়া চলবে। আমরা প্রতিমাসের এক তারিখে তার বাড়িতে হাজির হবো। আমরা দেখবো না তার মা বাবা কোন ধর্মের মানুষ ছিলেন।
তিনি বলেন, আমরা মানুষকে টুকরো টুকরো করতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা আর গডফাদার, গডমাদার, মাফিয়াতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি যুবকদের বার্তা দিতে চাই, আগামী দিনের বৈষম্যহীন দুর্নীতি-দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য তোমাদেরকে আরেকবার গর্জে উঠতে হবে। জেগে উঠতে হবে। আমিও তোমাদের সাথে থাকবো ইনশা আল্লাহ। আমার আপাদমস্তক সাদা হলেও ‘নো প্রবলেম’। বুকের ভেতরের কালারটা এখনো তরুণ আমার। মানুষের মুক্তির মিছিলে আমি পিছিয়ে থাকবো না। তোমাদের সামনে থাকবো।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমাদের কেউ কেউ ভয় দেখায়, তারা বলে যে ‘এই হলে’ ‘ওই হলে’ আবার আপনাদের ফাঁসি হয়ে যাবে। আরে ভাই কাকে ফাঁসির ভয় দেখান। যারা শহীদ হওয়ার জন্য উন্মুখ। এই ভয় করলে আমাদের নেতাদের ফাঁসির পাটাতনে দাঁড়াতে হতো না। সুতরাং আমাদের ফাঁসির ভয় দেখাবেন না।
তিনি বলেন, আমাদের ছোট একটা দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই। এর মাঝেই আমাদের গর্ব-সৌন্দর্য। এর মধ্যেই আমাদের শান্তি নিহিত। আমাদের সাফ কথা, আমরা এই দেশে কোন মেজরিটি মাইনরিটি মানি না। আমরা সবাই ইউনিটি। একটাই জাতি আমরা। মেজরিটি মাইনরিটি বলার খাসলত ছিল পতিত স্বৈরাচারের। এরা জাতিকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে মুখোমুখি করে রেখেছিল। আমরা মনে করি, যে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না, সে দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে বিশ্বের সাথে দাঁড়াতেও পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন অন্য কারো ধর্ম নিয়ে খোঁচাখুচি না করেন। সুড়সুড়ি না দেন। অন্য ধর্মের ভাইদের কষ্ট না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ যাদের মাইনরিটি বলতেন, তাদের সম্পদ এবং ইজ্জতসহ তাদের জীবনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন করেছে তারা। তিনি দাবি জানান, বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে যত ঘটনা ঘটেছে অনুসন্ধান করে তার শ্বেতপত্র বাংলাদেশের জনগণের সামনে প্রকাশ করে দেওয়া হউক।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, ভারতসহ দুনিয়ার সকল দেশ আমরা একই বিশ্ব সভার সদস্য। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র। ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশি। তারা যেন আমাদের ওপর এমন কিছু চাপিয়ে না দেন, যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সম্মানজনক নয়, অপমানজনক। যদি এরকম তারা কিছু করেন, দেশের স্বার্থে আমরা সেদিন ভূমিকা পালন করতে কারো চোখের দিকে তাকাবো না। আমরা বিবেকের দিকে তাকিয়ে, বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবো।
তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তোমাদের এমন শিক্ষায় গড়ে তোলার চেষ্টা করবো তখন তোমরা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভয় করবে। সেই সাথে শ্রেষ্ঠ কারিগরের হাত নিয়ে তোমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হবে। এক দিনের জন্য তোমাদের বেকারত্বের অভিশাপ ভোগ করতে হবে না। এরকম একটা দেশ গড়তে চাই। এজন্য উপস্থিত জনতার কাছে ভালবাসা এবং সহযোগিতা এবং সমর্থন চান ডা. শফিকুর রহমান। আর নারীদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তার সাথে দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পঞ্চগড়ের কিছু ন্যায্য দাবি ইতিমধ্যে উত্থাপিত হয়েছে। তিনি দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সেখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বৈষম্যহীন দেশে যে এলাকা বঞ্চিত সেই এলাকা সবার আগে তার পাওনা ফেরত পাবে। যে এলাকা পেয়ে গেছে সেই এলাকাও তার ন্যায্য হিস্যা পাবে বলে জানিয়ে দেন। জামায়াতে ইসলামী যতক্ষণ সত্য এবং ন্যায়ের পথে থাকে ততক্ষণ ভালবাসা এবং সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। বলেন, জনগণকে নিয়েই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, এখনো যদি চাঁদাবাজি হয়, দখলবাজি হয় তাহলেতো স্বৈরাচারিতা ও দলবাজি থেকে গেল। আজকে আমাদের আত্ম-প্রত্যয় হতে হবে খুনিদের বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৪১ দফা দিয়েছে। আমরা যৌক্তিক সংস্কার চাই। নির্বাচনও চাই। আমরা বলেছি আগে স্থানীয় নির্বাচন হতে হবে। কারণ বিগত স্বৈরাচার স্থানীয় নির্বাচন কলঙ্কিত করেছে। সেজন্য বর্তমান সরকারকে বলছি অতি তাড়াতাড়ি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করুন। আমরা আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। আমরা সংসদে সকল দলের প্রতিনিধিত্ব চাই। ভারতের অসম চুক্তি করে আওয়ামী লীগ ভারতকে সুযোগ দিয়েছে। অসম চুক্তি বাতিল করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী কোন ধর্ম বা বর্ণ দেখে সেবা দিবে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষ মনে করে সেবা দিবো।
অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ভারত বাংলাদেশের ঘোষিত শত্রু। এজন্য গুম খুনের জন্য দায়ী হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে। আহ্বান জানাবো হাসিনাকে ফেরত দিন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু ৬ মাসেও তা হয়নি। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরত চান।
জাগপা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, আমি বিশ্বাস করি পঞ্চগড়ের মানুষের পাশে থাকবে জামায়াতে ইসলামী। এই জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। সনাতন ধর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। জাগপা সবসময় জামায়াতে ইসলামীর সাথে থাকবে।
ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, বার বার নেতার পরিবর্তন হয়েছে। নীতির পরিবর্তন হয়নি। এবার নীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে নেতার পরিবর্তন করতে হবে। কোরআনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র বানাতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের এবং ইসলামের বাংলাদেশ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসাইন পিলখানা হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য সৎ মানুষদের নির্বাচিত করতে হবে। আগামীতে সৎ মানুষদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে হবে।
শ্রী রতন চন্দ্র রায় বলেন, আমরা ভাল আছি। আমাদের ভাল থাকার পেছনে কারণ রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবে জামায়াতের লোকজন আমাদের পাহারা দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে কোন খারাপ কথা বা আচরণ পাইনি। আমি জানি সারা দেশের জামায়াতের নেতারা ভাল আচরণ করে। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা বলেছন, বিপদের সময়ের বন্ধুই হলো, প্রকৃত বন্ধু। নৌকাডুবিতে আমার আত্মীয়-স্বজন ছিল। আমীরে জামায়াত আমাদের অর্থ দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। তখন আমি বুঝেছিলাম এই মানুষটা কত ভাল। তিনি চলে যাওয়ার পর আমি ঈশ্বরের কাছে বলেছিলাম আবারো যেন তাকে দেখতে পারি। সনাতনী ভাইদের বলবো জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসুক। বৈষম্য থাকবে না।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসেইন বলেন, পঞ্চগড়কে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানী বানাতে চাই। এখানে শিল্প বিপ্লব ঘটাতে চাই। তিনি উদ্বোধন হওয়া প্রাইভেট মেডিকেলের কাজ পুনরায় চালু করার দাবি জানান। সেইসাথে চা শিল্পের উন্নয়নে এখানে নিলাম কেন্দ্র বানানোর দাবি জানান।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর থানার উদ্যােগে মাহে রমজান উপলক্ষে ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগাং রোড মুক্তিনগর শিমরাইল এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত ভাই ও বোনদের মাঝে ইফতার সামগ্রী উপহার প্রদান করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার বলেন অতিতে যারা দেশের মানুষের অধিকার হরন করেছে নতুন করে অন্য কেউ ক্ষমতায় এসে তাদের মতো এমন করুক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তা কখনোই চায়না। জামায়াতে ইসলামী চায় আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন বাস্তবায়ন হউক। এসময় তিনি আরো বলেন আমাদের উচিত ছিল সমাজের প্রতিটি পরিবারের মাঝে খাবারের প্যাকেট পৌছে দেওয়া, এবং ধীরে ধীরে আমরা প্রতিটি পরিবারের মাঝে খাবার পৌঁছে দিবো ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন। এ সময় তিনি বলেন এদেশের মানুষ আর টেম্পু স্টার্নের চাদাঁবাজদের চায়না, দেশের মানুষ আজ ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ দেখতে চায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৎ লোকের শাসন ও আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম থানার সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান, দক্ষিন থানা আমীর আলহাজ্ব কফিল আহমেদ, উত্তর থানা আমীর মোস্তফা কামাল, জেলা শূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আ:বাকী , উত্তর থানা কর্ম পরিষদ সদস্য জনাব সাইদুল হক,ইব্রাহিম খলিল আব্দুল খালেক, প্রমূখ নেতৃবৃন্দ ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এ.টি.এম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি না দেওয়াতে আজ বিকালে নিজের ভেরিফাইড পেজে স্বেচ্ছায় কারাবরণের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর। উল্লেখ্য আজ ১৪ বছর ধরে কারাবন্দী জামায়াত নেতা জনাব আজহারের মামলার আপিল বিভাগের শুনানীর দিন নির্ধারিত ছিল। শুনানির কার্যতালিকায় ৯ নম্বরে ছিল জনাব আজহারের রিভিউ শুনানী। তবে সময়ের অভাবে আজ শুনানি হয় নি।
নিচে উনার ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হল।
প্রিয় দলীয় সহকর্মীবৃন্দ ও সম্মানিত দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, ফ্যাসিবাদের নিষ্ঠুর জুলুমের শিকার মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম সাহেব এখনও বন্দি রয়েছেন।
একে একে সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ মুক্তি পেলেও তিনি বৈষম্য ও জুলুমের শিকার হয়ে বন্দি জীবনের কঠিন বোঝা বহন করে চলেছেন। তাঁকে কারাগারে রেখে বাইরে অবস্থান করা আমার পক্ষে আর একেবারেই সম্ভব নয়। আমরা সরকারকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি।
এই জুলুমের প্রতিবাদে এবং জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম এর মুক্তির দাবিতে আমি নিজে গ্রেফতার হওয়ার জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে আদালত প্রাঙ্গনে হাজির থাকবো।
আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সময় মতো আমাকে যথাস্থানে পাবেন, ইনশাআল্লাহ।
আওয়ামী ফ্যাসীবাদীদের পতন হলেও মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনো কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন; তাই আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা, অবিলম্বে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আমাদের বিক্ষোভ-সমাবেশ-আন্দোলন কোন ভাবেই বন্ধ হবে না বরং জনগণ তাদের নেতাকে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করেই ছাড়বে’ বলে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি আজ বিকাল ৫টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের যৌথভাবে আয়োজিত এ বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. মুহা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির ও এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতিকুর রহমান,ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিমুদ্দিন মোল্লা ও ডা.ফখরুদ্দিন মানিক এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান প্রমূখ। বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে শাহবাগে এসে সমাবেশে মাধ্যমে সমাপ্তি হয়
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী ফ্যাসীবাদীরা দেশে অপশাসন- দুঃশাসন চালিয়েছে। এ সময় বাকশালীরা জামায়াতকে বিশেষভাবে টার্গেট করে দলের শীর্ষনেতাদের একের এক গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করেছে। এ সঙ্কটকালে জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু আওয়ামী তাদের পথের কাঁটা সরানোর তাকেও মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে দীর্ঘ ১৩ বছর পর্যন্ত সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে আটক করে রেখেছে। আমীরে জামায়াত সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলে বলেন, দেশ ফ্যাসীবাদ মুক্ত হলেও এটিএম আজহার মুক্ত হলেন না কেন ? তিনি সরকারের কাছে আজহারুল ইসলামের মুক্তির সময়সীমা জানতে চেয়ে বলেন, আমরা তার মুক্তি কবে হবে তা সুস্পষ্টভাবে জানতে চাই। আমাদের উদারতা ও ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না। তিনি এ বিষয়ে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আগস্ট বিপ্লবের সকল মজলুম একে একে মুক্তি লাভ করলেও এটিএম আজহারই ব্যক্তিক্রম। মূলত, তিনি সহ জামায়াতের শীর্ষনেতারা ফ্যাসীবাদের সাথে আপোষ করেন নি বলেই তাদের ওপর ইতিহাসের বর্বর ও নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষনেতাদের ফাঁসির মঞ্চে পাঠানো আগেও তাদেরকে নানাবিধ আপোষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আমাদের আপোষহীন ও অকুতোভয় নেতারা সেসব প্রস্তাবকে পায়ের তলে ফেলে শাহাদাতকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন । আর আমরা তাদেরই উত্তরসূরি। তাই আমরা চরম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। কিন্তু সবকিছুর সীমা আছে।
তিনি অবিলম্বে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও দলীয় নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসীবাদের জুলুম-নির্যাতন ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেছি। কিন্তু আমরা কারো সাথে আপোষ করিনি। কিন্তু দেশ এখনো বৈষম্যমুক্ত হয়নি। তাই দেশ যতদিন বৈষম্যমুক্ত না হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম বন্ধ হবে না। কারণ, আমাদের বিজয় সবে শুরু হয়েছে কিন্তু শেষ হয়নি। তিনি উচ্চকিত কন্ঠে স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ; শেষ হয়নি যুদ্ধ’। তিনি জনতার উদ্দেশ্যে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের যুদ্ধ-সংগ্রাম চলছে এবং চলবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি মহল বিশেষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফ্যাসীবাদের ভাষায় কথা বলবেন না। রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলুন। আমাদের ভয় দেখাবেন না; চোখ রাঙিয়ে কথা বলবেন না। আমরা কারো চোখ রাঙানীকে ভয় করিনা। তিনি সকল প্রকার দলমতের উর্ধ্বে ওঠে সকল প্রকার ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলামকে বিচারের নামে প্রহসন ও ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে গুরুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারের পতনের পরও তার মুক্তির দাবি নিয়ে আমাদেরকে রাজপথে নামতে হয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে এটিএম আজহারের মুক্তি, দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আগামী দিনের আন্দোলনকে সর্বাত্মক রূপ দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আওয়ামী ফ্যাসীবাদের পতনের পর অনেকের নামে মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কিন্তু জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ১৪ বছর কারারুদ্ধ থাকলেও সরকার তার মুক্তির ব্যবস্থা করেনি। দলীয় নিবন্ধন এবং প্রতীকের বিষয়টি অমিমাংসিতই রয়ে গেছে। তিনি টালবাহানা বন্ধ করে অবিলম্বে এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি, দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরত দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় দুর্বার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।