Image
মহানগরী যুব বিভাগের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মহানগরী যুব বিভাগের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন এর সভাপতিত্বে জনাব সারোয়ারুল আলম খান এর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আজ নগর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হ।  সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন।  প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন , সাংগঠনিক যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুব বিভাগ এর মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকে।  এমতাবস্থায় আমাদের যুব বিভাগ কে সুশৃঙ্খল ও যেকোনো অবস্থায় সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে।  প্রতি থানায় এ বিভাগের কার্যক্রমকে যথাযথ গতিশীল করতে হবে যাতে যেকোনো কার্যক্রম সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।  উক্ত মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি জনাব জাকির হোসাইন , নারায়ণগঞ্জ পশ্চিম থানার সেক্রেটারি ফয়সাল আলম , বন্দর দক্ষিণ থানার সেক্রেটারি জনাব কাজী রেদওয়ানুল হক মামুন , বন্দর উত্তর থানার সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম , বেলাল হোসাইন , আতিকুর রহমান স্বপন , শাকিল আহমেদ ,আব্দুল কুদ্দুস ,এরশাদ খান ,খলিলুর রহমান ও প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। 


Image
সবুজবাগ মুগদা জোনের উদ্যোগে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গতরাতে সবুজবাগ মুগদা জোনের উদ্যোগে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
জোন পরিচালক ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে রোকন সম্মেলনে উন্নয়নের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য ও সবুজবাগ দক্ষিণ থানা আমীর আব্দুল বারী, মুগদা পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা মতিউর রহমান, মুগদা পূর্ব থানা আমীর মো ইসহাক, সবুজবাগ পূর্ব থানা আমীর রওশন জামান প্রমুখ।


Image
মজলুম জননেতা এটিএম আজহারকে শীঘ্রই মুক্তি দিতে হবে না হয় আন্দোলন। -মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, কোন অপরাধ ছাড়াই শুধুমাত্র জামায়াত করার কারণেই তখনকার (২০১১) ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে আটক করে  সাজানো মামলায় প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করে দীর্ঘ দিন ধরে  কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি মজলুম জননেতা এটিএম আজহারকে শীঘ্রই  মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের নেতাকে জনগণই মুক্ত করে ছাড়বে ইনশাআল্লাহ। 
তিনি আজ বিকাল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ঈদগাহ ময়দানে শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা জামায়াত আয়োজিত থানার এক সহযোগি সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শেরেবাংলা নগর  উত্তর থানার আমীর মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল আজমের সভাপতিত্বে ও থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য  মুহাম্মদ মোবারক হোসেন,ঢাকা মহানগরী উত্তরের  নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, ঢাকা  মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।উক্ত সহযোগী সদস্য সসম্মেলনে  আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য ডা.শফিউর রহমান,মশিউর রহমান, থানা নায়েবে আমির শাহ আজিজুর রহমান তরুণ, অর্থ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হালিম, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, আগস্ট বিপ্লবে দলমত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে সকলেই আন্দোলনে নামলেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো শুধুমাত্র জামায়াতকে। আর আন্দোলন কারীদের রাজাকার বলার সাথে সাথেই চলমান আন্দোলন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিলো। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আওয়ামী- বাকশালীদের তখতে তাউসের পতন এবং তাদের খুনী নেত্রী সহ সকল মন্ত্রী-এমপিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মূলত, যারাই জামায়াত নির্মূল করার ষড়যন্ত্র করেছে তারাই ইতিহাসের পাতা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর জামায়াতের ওপর রয়েছে আল্লাহর রহমত। জামায়াতে ইসলামী আল্লাহভীরু লোকদের পার্লামেন্টে  পাঠিয়ে দেশকে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তিনি সে স্বপ্নের পার্লামেন্ট গঠনের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, মানুষের তৈরি আইন দিয়ে মানুষের কল্যাণ সম্ভব নয়। আগামী দিনে যারা সে বৃত্তে আটকে থাকবে জনগণ তাদেরকে আর কোন ভাবেই গ্রহণ করবে না। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবক্তা তাদের দিনও শেষ  হয়ে গেছে। এদেশের সিংহভাগ মানুষ মুসলমান। তাই এদেশে রাজনীতি করতে হলে কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতেই রাজনীতি করতে হবে। যারা দুর্নীতি, লুটপাট, অবক্ষয়ের বৃত্তে থাকবে এবং যৌনতা ও পৌত্তলিকতাকে উৎসাহিত করবে তাদেরকে জনগণ কোন ভাবেই ভোট দেবে না। মূলত, এদেশে রাজনীতি করতে হলে সুদভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে ইসলামী অর্থনীতি চালুর অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি ৪ দলীয় জোট সরকারে জামায়াতের মন্ত্রীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের ২ জন মন্ত্রী ৩ টি মন্ত্রণালয় চালিয়ে ২ টাকার দুর্নীতি করেন নি। মন্ত্রী সভার সকল সদস্য জামায়াতের মন্ত্রীদের মত আদর্শবান হলে দেশও আদর্শে রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব। তিনি দেশকে একটি ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্বমুক্ত আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করতে আদর্শবান লোকদের নির্বাচিত করার আহবান জানান। তাহলেই দেশকে অপশাসন-দুঃশাসন মুক্ত করা সম্ভব।


Image
ঢাকা মহানগরী উত্তরের উত্তরা পূর্ব জোনের ওয়ার্ড ও থানা দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উত্তরা পূর্ব জোনের উদ্যোগে ১৪ ফেব্রুয়ারী, জুমাবার স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জোন পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোঃ আবদুর রব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আবদুর রহমান মুসা,  কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মাহফুজুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবক অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, দারসুল কুরআন পেশ করেন গাজীপুর মহানগরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন।  আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র জোনের টীম সদস্য মোহাম্মদ আলী, সকল থানা আমীর, নায়েবে আমীর ও সেক্রেটারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উত্তরা পূর্ব জোনের টীম সদস্য মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন


Image
কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সাহাবীদের সংগ্রামী জীবন অনুসরণ করতে হবে : শাহাবুদ্দিন


জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও দৈনিক সাতমাথা পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেছেন কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সাহাবীদের সংগ্রাম জীবন অনুসরণ করতে হবে। কুরআনের দাওয়াত জনগনের কাছে পৌঁছাতে হলে জামায়াত নেতা কর্মীকে কুরআনের আলোয় নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। আগামীতে ইসলামের বিপ্লব ত্বরান্বিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই কুরআনের কাছে আসতে হবে। নেতা কর্মীদেরকে কোরআন হাদিসের শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও সমাজ থেকে অন্ধকার দূরীভূত করতে হবে।  সকল ক্ষেত্রে আদল এবং ইনসাফ কায়েম করে দেশ থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে।
তিনি শুক্রবার সকালে বগুড়ার কলোনীস্থ শাহওয়ালী উল্লাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার দিনব্যাপী ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন দায়িত্বশীল শিক্ষা শিবির এ কথা বলেন।  শহর আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুর রহীম। তারবিয়াত সেক্রেটারী অধাপক আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, সেক্রেটারী অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক, অধ্যাপক রফিকুল আলম, এ্যাডভোকেট আল আমিন, এ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, আজগর আলী, মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, অধ্যাপক আব্দুস সালাম তুহিন, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন, এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ।


Image
বৈষম্যমুক্ত সাম্য ও মানবিক দেশ গড়তে জাতিকে আরও একটা ধাক্কা দিতে হবে

বৈষম্যমুক্ত সাম্য ও মানবিক দেশ গড়তে জাতিকে আরও একটা ধাক্কা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেনতেনভাবে নির্বাচন এই জাতি চায় না। নির্বাচনের মতো নির্বাচন চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এই নির্বাচনে পেশীশক্তি আর কালো টাকার খেলা চলবে না। এমনটা চাইলে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এটা সহজে আসবে না আমরা বুঝতে পারছি। একটা ধাক্কা ২৪ এর জুলাই-আগষ্টে দেওয়া হয়েছে। আরেকটা ধাক্কা জাতিকে দিতে হবে।
আজ জুমাবার বিকেলে নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে নরসিংদী জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নরসিংদী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোঃ মোছলেহুদ্দীন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ.ফ.ম আব্দুস সাত্তার, মাওলানা আব্দুল মান্নান, এড. মশিউল আলম ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার প্রমুখ। নরসিংদী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আমজাদ হোসেন এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন নরসিংদী জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ আমি যুবকদের অভিনন্দন জানাই তোমরা দু:সাধ্যকে সাধন করেছো। তোমরা আমাদের জাতীয় বীর। যারা ২৪ এর লড়াইয়ে জীবন দিয়েছে তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, হে আল্লাহ! তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করো। তাদের পরিবারকে সান্ত্বনা দান করো। আহতদের সুস্থতার নিয়ামত দান করো। আর তাদের রেখে যাওয়া আমানত আমাদের ঘাড়ের ওপর। সেই দায়িত্ব পালন করার তাওফিক আমাদের দান করো।
তিনি বলেন, অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে বাংলাদেশে। যেনতেন মার্কা নির্বাচন এই জাতি চায় না। নির্বাচনের মতো নির্বাচন চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এই নির্বাচনে পেশীশক্তি আর কালো টাকার খেলা চলবে না; আমরা এমন একটা নির্বাচন চাই। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, আপনারাও কী এমন একটা নির্বাচন চান? উত্তর আসে হ্যাঁ। তিনি আবারো জানতে চান শিওর আপনারা চান? আবারো উত্তর আসে হ্যাঁ। তা চাইলে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এটা সহজে আসবে না আমরা বুঝতে পারছি। একটা ধাক্কা ২৪ এর জুলাই আগষ্টে দেওয়া হয়েছে। আরেকটা ধাক্কা জাতিকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, সত্যিকারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমাদের ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে। যারা ভূয়া ভোটার তাদের বাদ দিতে হবে। দুনিয়া থেকে যারা বিদায় নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে বাদ দিতে হবে। যাদের ভোটের বয়স হয়েছে কিন্তু নাম তালিকাভূক্ত হয়নি এই যুবকদের নাম তালিকাভূক্ত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আগস্টের আন্দোলন সফল করতে সারাবিশ্ব বাংলাদেশের সাথে হাত মিলিয়ে একাকার ছিল। আমরা যেমন বাংলাদেশে ছিলাম, বিদেশেও আমাদের ভাইয়েরা জেলে গিয়েছে। তারা একইসাথে আমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে। রেমিট্যান্স বন্ধ করে স্বৈরাচারকে লাল পতাকা দেখিয়েছে। আমরা তাদেরকেও স্যালুট জানাই। আমরা চাই প্রত্যেকটি প্রবাসী ভাই ও বোনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এরপর প্রশাসনে যারা আছেন, যারা অতীতে দায়িত্বের পরিচয় দিতে পারেননি. দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের হাত থেকে জনগণের টাকায় কেনা বুলেট জনগণের বুকে বিধেঁছে। আগামি দিনে আমরা তাদের কোন দায়িত্বে দেখতে চাই না। কথা একদম সাফ। এখানে কোন ধানাই পানাই নেই; তিনি প্রশাসনের যে পর্যায়েই থাকুন না কেন। কিন্তু প্রশাসনের সৎ এবং দেশপ্রেমিক অফিসার যারা আছেন, তাদের কথা দিচ্ছি, আপনাদের দায়িত্ব পালনে হাতে হাত রেখে দেশবাসী কাজ করবে ইনশা আল্লাহ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার চলছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অপবাদ রটানো হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করি জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা কি অন্য কোন দেশ থেকে এখানে এসেছে? এখানেই তাদের জন্ম হয়েছে। আপনাদের সাথে বড় হয়েছে। আপনাদের সাথে বসবাস করে। তাদের চরিত্রের সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য আপনারাই যথেষ্ট।
জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা একটা বৈষম্যহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেই বাংলাদেশে প্রত্যেকটা মানুষ প্রত্যেকটা মানুষকে সম্মান করবে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে ঘরে বাইরে কর্মস্থলে সকল জায়গায় নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সাথে তার দায়িত্ব পালন করবে। গর্বিত একজন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিবে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ তার ধর্মকর্ম পালন করবে। কিন্তু তার ধর্মে কেউ হস্তক্ষেপ করার সাহস করবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়তে কি আপনারা সবাই প্রস্তুত ? আমাদেরকে সাহায্য করতে প্রস্তুত? আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি জানান যতক্ষণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ন্যায়ের পথে, দেশপ্রেমের পথে আপোষহীন পাবেন, কল্যাণকর কাজে দেখবেন, জনকল্যাণকর কাজে আপনাদের পাশে পাবেন এবং আগামীর বাংলাদেশ গঠনে তাদের ওপর আস্থা রাখার মতো সামনে পাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের ভালবাসা আমরা চাই। আপনাদের দোয়া চাই, সমর্থন চাই। আপনাদেরকে পাশে চাই। আপনাদের বুকে একটু জায়গা চাই। যদি একটু জায়গা দিতে পারেন তাহলে আমরা আপনাদের ওয়াদা দিচ্ছি, আমরা আল্লাহর দেওয়া সকল শক্তির বিনিময়ে আপনাদের গল্পের, স্বপ্নের মানবিক বাংলাদেশ উপহার দিবো ইনশা আল্লাহ। যুদ্ধ আমাদের শেষ হয়নি, আমাদের যুদ্ধ চলবে। মুক্তির পথে লড়াইয়ে আবারো দেখা হবে।
দেশে দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মাঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের দুঃশাসনের দুই বছর, পরবর্তী শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের সাড়ে ১৫ বছর, এই সাড়ে ১৭ বছর ভীষণ কষ্টের মধ্যে ছিল এ দেশের মানুষ। এই সময়ের ভিতরে অসংখ্য আল্লাহর বান্দা-বান্দী খুন, গুম, অপহরণ ও আয়নাঘরের বাসিন্দা হয়েছেন। অনেকে পঙ্গু ও আহত হয়েছেন। অযথায় মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পুরে রেখেছে। অনেকে চাকুরী, ব্যবসা হারিয়েছেন, অনেকের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের উপর বাড়তি জুলুম করা হয়েছে। এক এক করে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। বিচারের নামে তামাশা করে কাউকে দেয়া হয়েছে ফাঁসি, কাউকে ঠেলে দেয়া হয়েছে মৃত্যুর দিকে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা তথা ইউনিয়ন কার্যালয়গুলো পর্যন্ত তালা বদ্ধ করে রেখেছে। জামায়াত একমাত্র দল, যে দলের নিবন্ধন কেড়ে নেয়া হয়েছে। দুঃখের বিষয়- ফ্যাসিবাদ আপাতত বিদায় নিয়েছে, নিবন্ধনটি আমরা এখনো ফিরে পাইনি। এখনো সেই নিবন্ধন ফিরে পেতে আইনী লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য লজ্জার বিষয়। আমাদের দেশ প্রেম ও ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত না করার কারণে আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আমাদের নিবন্ধনটি ফ্যাসিবাদের পরিবর্তনের সাথে সাথে দিয়ে দেয়া উচিৎ ছিল। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি- অবিলম্বে আমাদের পাওনা প্রতীকসহ আমাদের কাছে ফেরৎ দিন। জামায়াতের উপর জুলুম করা হয়েছে। এই জুলুমের অবসান হোক।
মিথ্যা মামলায় যত নেতৃবৃন্দকে আটক করা হয়েছিল, একে একে সকলেই মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়- বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী এটিএম আজহারুল ইসলামকে এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি। জনতার দাবি তাকে এখনই মুক্তি দিতে হবে। তিনি মজলুমদের প্রতীক। এক এক করে আমাদের শ্রেষ্ঠ নেতৃবৃন্দদের তারা খুন করেছে, আল্লাহ তাআলা তার একজন বান্দাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ওনাকে সম্মানের সাথে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক। যদি মুক্তি দিতে গড়িমসি করা হয় তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনসম্পৃক্ত ন্যায্য দাবিসহ জনাব আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে মাঠে নামবে।
এ মাসটি হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের মাস। এই মাসে যারা প্রাণ দিয়েছিল, তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুক। কিন্তু আমরা কি দেখলাম, ৫২ গেলো, ৭১’র গেলো, দেশ স্বাধীন হলো, কিন্তু আমরা দেখতে পাই, বরকতের জীবিত মা এখনো ভাঙ্গা একটি খুপড়ি ঘরে বসবাস করছে। এটি জাতির জন্য লজ্জার। যারা ৫২কে পুঁজি করে রাজনীতি করে, তারাইতো দেশ চালিয়েছে। তাহলে বরকতের মা-কে কেন খুপড়ি ঘরে রাখা হলো।
যারা জনগণের সম্পদ লুটে গত সাড়ে ১৫ বছর আমাদের দেশ থেকে ২৬ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে; এদেশকে তারা তাদের দেশ মনে করে না। তারা রাজনীতি করে বাংলাদেশে, বউ-বাচ্চাকে পাঠিয়ে দিয়েছে বিদেশে। কানাডায় তারা বেগমপাড়া গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ তারা চুরি করে নিয়ে গেছে, অথচ তারা অন্যদেরকে চোর বলতো। শেখ হাসিনা সকল চোরদের মা, এবার মাও পালিয়েছে, চোরেরাও পালিয়েছে।
বিচারকরা আদালতে বসে বিচারের নামে একেক জনের বিরুদ্ধে হত্যার রায় দিয়ে, রাতে গিয়ে টেলিভিশনের টকশোতে বসে গর্ব করে বলতো ‘আজকে নিজামীকে, কালকে গোলাম আযমকে, পরশু দিন সাঈদিকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে এসেছি। এদের মধ্যে কেউ কেউ বলতো, আমরা শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ। বিচারকের চেয়ারে বসে যারা রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে জাতির কলংক। সে বিচারক হতে পারেনা।
প্রত্যেকটি গণহত্যাকারীকে দেশে হোক, বিদেশে হোক, পাকরাও করে ট্রাইব্যুনালের হাতে তুলে দিতে হবে। এদের বিচার জাতি দেখতে চায়। মাফিয়া খুনিদের গডমাদার ছিল শেখ হাসিনা। তারই আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে থেকে সমস্ত খুনীরা লালিত পালিত হয়েছে। এগুলো আমরা বললে কিছু কিছু মানুষ সন্দেহ করতো, এগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য। গত পরশু দিন তাদের কপালের বয়ান বিশ^বাসীর কাছে এসেছে। তাদের আমলনামা গোটা দুনিয়ার মানুষ জানতে পেরেছে। তারা কি করেছে, কোন অপরাধটা তারা করে নাই, সবকিছু বের হয়ে আসবে।
আমরা চাই অপরাধীদের বিচার হোক, কিন্তু আমরা এটাও চাই, তাদের উপরও ন্যায় বিচার করা হোক। তাদের উপর যেন কোন অবিচার না করা হয়। আমাদের উপর জুলুম করা হয়েছে, আমরা জুলুমের কষ্ট বুঝি। আরো কারো উপর জুলুম হোক এটা আমরা চাইনা। তাদের অপরাধে যে হিমালয় তারা তৈরী করেছে, আমরা বিশ্বাস করি যদি সুবিচার হয়, এই হিমালয়ের নিচেই তারা চাপা পড়বে। দেশের সম্পদ দেশে থাকুক আর বিদেশে থাকুক, দেশের সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে। বৈষম্যহীনভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।


Image
দেশে যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত -মোবারক হোসাইন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক জনাব মোবারক হোসাইন বলেছেন, দেশে যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। পতিত স্বৈরাচারের সৃষ্টি করা জঞ্জাল পরিষ্কার করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই ফ্যাসিবাদীদের বিচার করা প্রয়োজন।

তিনি ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মাগুরা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চল জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলগণের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টীম সদস্য খোন্দকার মহসিন আলী, জনাব আব্দুল মতিন, অধ্যাপক ড. আলমগীর বিশ্বাস, মাগুরা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক এম বি বাকের, যশোর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূল, নড়াইল জেলা জামায়াতের আমীর এড. আতাউর রহমান বাচ্চু, ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমীর মো: আবু বকর আলী আজম, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর এড. রুহুল আমিন, মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন প্রমুখ।

জনাব মোবারক হোসাইন আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সবাইকে প্রচেষ্টা করতে হবে। নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না করে নির্বাচন দেয়া যাবে না। জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে সে রকম একটি পরিবেশ সৃষ্টি করাই সকলের কাম্য হওয়া উচিত। দেশের জনগণ অধীর আগ্রহের সাথে কাক্সিক্ষত নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। আমি আশা করি বর্তমান সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। এ লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদীদের বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে হবে।


Image
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এর সাথে পাকিস্তানের মান্যবর হাইকমিশনার মি. সৈয়দ আহমেদ মারুফ এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, বিকাল ৩টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের মান্যবর হাইকমিশনার মি. সৈয়দ আহমেদ মারুফ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সাথে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন এবং মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয় এবং ভ্রাতৃপ্রতিম উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মি. মুহাম্মাদ ওয়াসিফ ও পলিটিক্যাল কাউনসেলর মি. কামরান ধাংগল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের ও মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ.টি.এম মা’ছুম, মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন।


Image
জনাব রুহুল কবির রিজভী জামায়াতে ইসলামীকে ‘মুনাফিক’ বলে যে মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদঃ এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ


জনাব রুহুল কবির রিজভী জামায়াতে ইসলামীকে ‘মুনাফিক’ বলে যে মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদঃ এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ

১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক স্মরণ সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জামায়াতে ইসলামীকে ‘মুনাফিক’ বলে যে মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ১৩ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক স্মরণ সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ‘আমরা জামায়াতকে সমর্থন করিনি। বিএনপির উদারতার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রথম রাজনীতি করার সুযোগ পায়। কিন্তু সব সময় এই দলটি মুনাফেকি করেছে। মুনাফেকি ছাড়া তারা কিছু করেনি।’ মর্মে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা আপত্তিকর, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা তার এই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, জনাব রিজভী জামায়াতের বিরুদ্ধে এসব কথা উচ্চারণ করে আসলে কী অর্জন করতে চান, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে দেশকে যখন ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেই মুহূর্তে তার এই বক্তব্য জাতীয় ঐক্যবিরোধী এবং দুরভিসন্ধিমূলক। দেশবাসী মনে করে, এ ধরনের বক্তব্য সৌজন্যতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করে। জামায়াতে ইসলামী কখনো কারো সাাথে মুনাফেকি করেনি। জামায়াত দেশের মানুষের অধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীনভাবে লড়াই করে যাচ্ছে। তার এইসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ভারতের আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। জামায়াতের এই ভূমিকা গোটা জাতি গ্রহণ করেছে। আর এ কারণেই সম্ভবত জনাব রিজভীর গাত্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অপবাদ আরোপের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।


Image
আগামীর বাংলাদেশ হবে বৈষম্যমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফেরঃ ডাঃ শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে বৈষম্য মুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফের; যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশের অধিকার পাবে। প্রত্যেকে তার ন্যায্য অধিকার যথাযথভাবে ভোগ করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো। দেশব্যাপী আমাদের নেতাকর্মীদেরকে অমানবিকভাবে দিনের পর দিন নির্যাতন করা হয়েছে, শহীদ করা হয়েছে। মুসলিম দেশে স্বাভাবিক ধর্ম-কর্ম পালন করাও মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছিলো। শহীদদের রক্তের ফোঁটা ও মজলুমের চোখের জলের বিনিময়ে জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার মুক্ত হয়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই দেশকে এখন সকলে মিলে গড়তে হবে। কোনো বিভেদ-বিভাজন তৈরী করে এই অগ্রযাত্রাকে থামতে দেয়া যাবে না। তিনি আগামীর বাংলাদেশ গঠনে প্রয়োজনে আগের থেকেও আরও বেশি ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে এবং সকল বৈষম্য, অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সবকিছুর ফায়সালা আমাদের হাতে নেই। কিন্তু যোগ্যতার সবটুকু দিয়ে সত্যকে ধারণ করে সত্যের পক্ষে চেষ্টা চালাতে হবে। আবেগ এবং বিবেকের সংমিশ্রণে চলতে হবে। সংযত আবেগই শক্তি।
তিনি ৯ ফেব্রুয়ারি রোববার দুপুরে নগরীর একটি ইনডোর মাঠে সিলেট জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফজলুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীনের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা নায়েবে আমীর হাফেজ আনওয়ার হোসাইন খান, জেলার সাবেক নায়েবে আমীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাশুক আহমদ, জেলা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, জেলা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, জেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল-হোসাইন প্রমুখ।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের প্রতিটি সেক্টরে সৎ ও যোগ্য লোকদের নেতৃত্বে বসাতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণে সকল নেতিবাচক কার্যক্রম পরিহার করতে হবে।
জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, কুরআন আমাদের জীবন বিধান। এর সাথে সকলের সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে কুরআনকে প্রতিষ্ঠা করতে সাবইকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।