Image
জামায়াতের আগামী ১৯ জুলাই  জাতীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে শহরে বিশাল শোডাউন।

জামায়াতের আগামী ১৯ জুলাই  জাতীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে শহরে বিশাল শোডাউন।

১৮ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা  চাষাড়া মিশন পাড়া থেকে হাজার হাজার নেতা কর্মীর উপস্থিতিতে আগামী ১৯ জুলাই  জাতীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে  বিশাল শোডাউন করেছে।

মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে উক্ত মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ। মহানগরী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইনের পরিচালনায়  এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম,  মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জামাল হোসেন,এইচ এম নাসির উদ্দিন,  মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের  নেতৃবৃন্দ।

মাওলানা মইনুদ্দীন আহমাদ বলেন, এদেশে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা ব্যাতিত কখনো শান্তি আসতে পারে না।  তাই আগামী নির্বাচনে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক সুন্দর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মহানগরে আমির মাওলানা  আবদুল জব্বার বলেন, জুলাই  বিপ্লবের মূল স্পিরিডকে ধারণ করে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে যেমনিভাবে আমরা বিপ্লব ছিনিয়ে নিয়েছি, জীবন দিয়েছি ঠিক তেমনিভাবে আগামী দিনে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে  ঐক্যবদ্ধ  লড়াই করে শান্তি কামিনী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করব। আবদুল জব্বার আরো বলেন আগামীকাল ১৯শে জুলাই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী  উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয়  সমাবেশের সাত দফা কর্মসূচি রয়েছে আমরা মনে করি সাত দফা বাস্তবায়ন হলেই এদেশের মানুষ আর কোন ফ্যাসিবাদের নির্যাতনের শিকার হবেনা। নতুন কোন ফ্যাসিজম  প্রতিষ্ঠা হবে না, চাঁদাবাজ- দখলবাজ,  কোন সন্ত্রাস এসে মানুষের উপর জুলুম করতে পারবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় সমাবেশে সর্বোচ্চ জনশক্তি নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহন করবো। ইনশাআল্লাহ।  সমাবেশে যোগ দিতে লোকজন গাড়িতে যাবে, ট্রেনে যাবে লঞ্চে যাবে আর যদি তা না পায়  প্রয়োজনে  পায়ে হেঁটে উপস্থিত হবে। আমরা মনে করি জাতির  এই কান্তি লগ্নে আগামীকালের জামায়াতের সমাবেশ এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।


Image
নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়াতে আল্লাহর দরবারে আমীরে জামায়াতের শুকরিয়া

আলহামদুলিল্লাহ



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনসংক্রান্ত সুপ্রীম কোর্টের দেয়া রায়ের প্রেক্ষিতে আজ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিক পুনর্বহাল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

মহান রবের দরবারে নতশিরে শুকরিয়া আদায় করি—আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।

আজ আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।


Image
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ ০৪ ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুুল জব্বার এর পক্ষ থেকে ঈদ মুবারক ও শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ তথা বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নারায়ণগঞ্জ ০৪ ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুুল জব্বার।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বিশ্বের মুসলমানদের সার্বজনীন আনন্দ উৎসব হলো পবিত্র ঈদুল আজহা ।

এই দিন সামর্থবান মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র কুরবানীর মাধ্যমে ঈদের আনন্দ এক সাথে উপভোগ করে থাকে। সার্বজনীন এ ঈদ মানবতার অবারিত কল্যাণের বার্তা বয়ে আনুক।

এসময় তিনি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সহ দেশ বিদেশে অবস্থানরত সকলকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ঈদ মুবারক



Image
ফতুল্লাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগ

শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন ইউনিয়ন সমূহের জলাবদ্ধতা সমস্যা দ্রুত নিরসন কল্পে সুনির্দৃষ্ট ভাবে সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে ৪ জুন সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর ও ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ উন্নয়নর ফোরামের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল জব্বার। এসময় তিনি সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও সমাধানের বিষয় গুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখতি, তথ্য ও ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরেন।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ উন্নয়ণ ফোরামের সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আবু সাইদ মুন্না, ফোরামের সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশান নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সদস্য হাফেজ আবদুল মুমিন, অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির, ফোরামের সদস্য মাওলানা নাসির উদ্দিন, নূরুল হুদা প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।


Image
ঘোষিত বাজেটের উপর জামায়াতে ইসলামীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য ঘোষিত বাজেটের উপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ২ জুন প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “অর্থ উপদেষ্টা ২ জুন বিকেলে টিভি চ্যানেলে ভাষণের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য ৭ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকার এক বাজেট পেশ করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম বাজেটে নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় আশানুরূপভাবে প্রতিফলিত হয়নি। পূর্বের বাজেটসমূহের ন্যায় এটি একটি গতানুগতিক বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের সাথে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মূল বাজেটের মোটা দাগে খুব একটা তফাৎ পরিলক্ষিত হয়নি। এবার বাজেটে ব্যয় না বাড়লেও তেমন কোন ব্যয় কমেওনি, এতে কোন নতুনত্বের ছোঁয়াও পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এই বাজেটে বড় অংকের ব্যয় মেটাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরেও এর কাছাকাছি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে আমরা মনে করছি।

তিনি বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট বাড়িয়ে ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে। বাজেটে বিদেশ নির্ভরতা কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ কর বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ দেখা গেলেও প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধির তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পরোক্ষ কর বৃদ্ধির কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে এর ভার বহন করতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য ভ্যাট ও আমদানি শুল্কখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের কর অবকাশ ও ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা সংকুচিত করা হয়েছে। এতে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। পাশাপাশি এসি, ফ্রিজ, মোবাইল ফোন এবং এলইডির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তার খরচ বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে সুতার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করায় আরএমজি সেক্টরে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে তৈরী পোশাক শিল্পের রপ্তানীর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, এত বড় বাজেটে শিক্ষা সামগ্রীর দাম কমালেও শিক্ষা খাতে মোট বাজেট কমানো হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে উপকরণ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার-কীটনাশকসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কমানো হয়েছে যা আশাব্যঞ্জক। এছাড়াও কোল্ড স্টোরেজ খরচ কমানোর কারণে কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা প্রশংসার দাবী রাখে। তবে তা আরো বরাদ্দের দাবী রাখে। এক্ষেত্রে সুচিকিৎসা অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন। মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে ৬.৫% করার কথা বলা হলেও বাজেটে এ লক্ষ্য অর্জনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রদান করা হয়নি, যা কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরী করেছে।

বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ এবং অন্যান্য অবৈধ অর্থ উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার স্পষ্ট কোন পরিকল্পনা বাজেটে লক্ষ্য করা যায়নি, যা জাতিকে হতাশ করবে। এছাড়াও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এই অপচেষ্টা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

আমি আশা করি সরকার কর্তৃক ঘোষিত বাজেটকে গণমুখী করার জন্য আয়কর আরও কমিয়ে এনে জনকল্যাণখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করবেন। ঘোষিত বাজেট পর্যালোচনা করে আমরা এ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য পরে জাতির সামনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।


Image
জামায়াত নেতা এ টি এম আজাহারুল ইসলামের মুক্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জামায়াতের শোকরানা সমাবেশ

বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল কারা নির্যাতিত মজলুম জননেতা এ টি এম আজাহারুল ইসলামের বেকসুর খালাস হওয়ায় ২৯মে বৃহস্পতিবার সন্ধায় মুহিত ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে সিদ্ধিরগঞ্জ জামায়েত ইসলামীর পক্ষ থেকে শোকরানা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত শোকরানা সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমির মাওলানা আবদুল জব্বার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন "সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত" নিশ্চয় মিথ্যার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী", তিনি আরো বলেন পতিত স্বৈরাচারী সরকার বিনা বিচারে লক্ষ লক্ষ আলেম ওলামাদের নির্বিচারে জেল জুলুম খাটিয়ে গুম খুন ও ফাসিঁতে ঝুলিয়েছেন। কিন্ত একটা কথা সবার মনে রাখা উচিত আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখতে চাইলে পৃথিবীর কারো সাধ্য নেই মারার। বর্ষিয়ান নেতা এ টি এম আজাহারুল ভাই তার দৃষ্টান্ত প্রমান। তাই আসুন আমরা রংয়ে রঙ্গিন হই আমাদের এই প্রাপ্তির উল্লাস প্রকাশ হবে এখন থেকে বেশি বেশি এবাদত করার মাধ্যেমে।

এসময় নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের সংগ্রামী সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন বলেন বর্ষিয়ান নেতা এ টি এম আজাহারুল ইসলাম ভাইকে যারা বিনা অপরাধে কারাভোগ করিয়েছে তাদের প্রত্যেকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এসময় সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর থানা আমির মোস্তফা কামাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ দক্ষিন থানা আমীর আলহাজ্ব কফিল আহমেদ, পশ্চিম থানা আমীর মাহাবুব আলম, পুর্ব থানা আমীর আলি আক্কাস, উত্তর থানা সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম রিপন, দক্ষিন থানা সেক্রেটারি সাদ আহমেদ, পূর্ব থানা সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, সাইদুল হক, আবদুল মতিন সহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ।


Image
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত

২৪ মে শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীরবৃন্দ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান মজলিসে শূরার অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের এই দীর্ঘ পরিক্রমায় জাতির মূল প্রত্যাশার অনেকগুলো আজও অপূর্ণ থেকে গেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মর্যাদাপূর্ণ হেফাযত সংরক্ষণ করতে পারেননি। গত ১৫ বছরের শাসকগোষ্ঠী দেশকে দুঃশাসন উপহার দিয়েছে। তাদের পুরোটা সময় মানুষ দুঃস্বপ্নে বসবাস করেছে। জেল-জুলুমের স্টিমরোলার জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কাউকে বিচারের নামে প্রহসন করে আবার কাউকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। আয়নাঘর বানিয়ে গুমের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে দেশে যা ঘটেছে তার সাক্ষী দেশের আপামর জনগণসহ গোটা বিশ্ববাসী। ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এবং মানবাধিকার সংগঠন ঐ সময়ের সরকারকে স্পষ্টভাবে দায়ী করে জুলাই-আগস্টের ঘটনার একটি রিপোর্ট পেশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে অবস্থান করছি। এই বাঁক সফলভাবে উত্তরণ করতে হবে। বিশেষ করে গত কয়েক দিনের ঘটনা প্রবাসীসহ দেশবাসীকে বিচলিত করেছে। এব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। আমরা দ্রুততম সময়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা করে দেশের চলমান বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আলোচনায় আমরা বলেছি সংঘাত-সংঘর্ষ এবং কাদা ছোড়াছুড়ি করে জাতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া একেবারেই সমীচীন হবে না।
তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনীতি দেশ ও জনগণের কল্যাণে। জামায়াত সবসময় জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দলীয় পরিকল্পনা-কর্মসূচি রচনা ও পরিচালনা করে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এই অনিশ্চয়তা উত্তরণে আমরা অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে সর্বদলীয় ডায়ালগ করার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি সকলের সন্তোষজনক আলোচনার মাধ্যমে জাতির আতঙ্ক ও আশঙ্কা দূর হবে এবং এ সংকটের উত্তরণ ঘটবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ২০১৪ তে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ২০১৮ তে নিশি রাতের ভোট এবং ২০২৪ এ ডামি আর আমি’র প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির সাথে চরম তামাশা করা হয়েছে। এ অবস্থায় জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে হবে; যার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে জনগণের মতের প্রতিফলন ঘটবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমরা সরকারের কাছে সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করেছিলাম। সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সরকারের প্রতি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করছি। এরপর আমাদের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের সুষ্ঠু বিচার। এ বিচার প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ। তবে জাতির কাছে বিশ্বাসযোগ্য বিচারকার্য অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি দুটি স্পর্শকাতর বিষয় জাতির সামনে এসেছে। মানবিক করিডোর ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থাপনা। এব্যাপারে সিকিউরিটি এক্সপার্ট এবং দেশের সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অথবা নির্বাচিত পার্লামেন্ট-এর জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে।
সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের গর্বের বিষয়। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা উচিত নয়। জাতির প্রত্যাশা সেনাবাহিনী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার মাধ্যমে দেশ ও জাতির সেবা করবে এবং দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ও সেনাবাহিনী যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের দিকে নজর দিবে।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার বলেছেন জাতীয় নির্বাচন তিনি এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে চান। এতে আমাদের আস্থা রয়েছে। এব্যাপারে আমরা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে চাই।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত শান্তিকামী বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ দশকের পর দশক ধরে নির্যাতিত এবং নিষ্পেষিত হচ্ছে। গাজা ও ফিলিস্তিনে মানবতাবিরোধী যুদ্ধ চলছে। আমরা জাতিসঙ্ঘসহ শান্তিকামী ও মানবতাবাদী বিশ্বসম্প্রাদয়কে যুদ্ধ বিরতি নয়, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। সিরিয়াকে সে দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলতে দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরাকান প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, আরাকানের রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে সম্মান ও নিরাপত্তার সাথে পুনর্বাসিত করতে হবে। এব্যাপারে জাতিসংঘকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমীরে জামায়াত নিজ দলের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সকল ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা সমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আপনাদেরকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। আমাদের প্রত্যাশা আপনাদের ইতিবাচক ভূমিকা সমাজকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আসুন আমরা কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলি।
সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে জনপ্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছে দেয়ার জন্য আমাদের প্রিয় সংগঠন অতীতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে; ভবিষ্যতের জন্যও আমরা প্রস্তুত। আল্লাহ তায়ালার বিধানে বিশ্ব মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বিধানের মাধ্যমেই সব ধর্মের মানুষের জীবন-সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা এবং তাদের নিজ নিজ অধিকার নিশ্চিত করার আমাদের লড়াই-সংগ্রাম, চেষ্টা-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আসুন আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রিয় দেশকে সকল ধরনের ক্ষতি ও ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করুন। অনৈক্য ও বিভাজন তৈরি না করি। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিই।


Image
একজন খুনের আসামী কিভাবে গ্রেপ্তারের পূর্বে প্রেস ব্রিফিং করে?

প্রশাসনের ঘাড়ে এখনো ফ্যাসিষ্টদের প্রেতাত্না ভর করে আছে!

আওয়ামী আমলে কোন মামলা ওয়ারেন্ট ছাড়াই গভীর রাতে জামায়াত-বিএনপিসহ বিরোধী মতের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সামন্যতম সময়ক্ষেপণ করেনি,বরং বাড়ী-ঘর দরজা-জানালা ভেঙ্গে টেনে-হিচড়ে লাঞ্চিত-অপমানিত করে তাদের মা-বাবা স্ত্রী-সন্তানদের সামনে থেকে অমানবিক ভাবে নিয়ে গিয়েছে।

কিন্ত গতকাল দেখলাম নারায়ণগঞ্জে গণ–অভ্যুত্থানের
৫ হত্যা মামলার আসামী নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে যথেষ্ট বিলম্ব করেছে, এই দূর্বলতার কারণ মানুষ জানতে চায় । তার চেয়েও সাংঘাতিক বড় প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলো একজন খুনের আসামী কিভাবে গ্রেপ্তারের পূর্বে প্রেস ব্রিফিং করে?

এতে স্পষ্ট বুঝা যায় প্রশাসনের ঘাড়ে এখনো ফ্যাসিষ্টদের প্রেতাত্না ভর করে আছে!


Image
জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার আপিল দ্রুত শুনানির আবেদন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছে। রোববার সকালে জামায়াতের পক্ষে ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৩ সদস্যের বেঞ্চে এ আবেদন করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছে। রোববার সকালে জামায়াতের পক্ষে ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৩ সদস্যের বেঞ্চে এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, জামায়াতের আপিল শুনানি শুরু হলেও হঠাৎ তা স্থগিত হয়ে যায়। যেহেতু দলটির নিবন্ধন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এ মামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাই এ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শুনানি প্রয়োজন।

শুনানি শেষে আপিল বিভাগ জানায়, বিষয়টি মঙ্গলবার বা বুধবার আদালতে শুনানির জন্য উঠতে পারে। এ বিষয়ে জামায়াতের আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী আমার দেশ কে জানান, আদালত এ সপ্তাহেই শুনানি হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন।

এর আগে, চলতি বছরের ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, এডভোকেট আসাদ উল্লাহ প্রমুখ । রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।


Image
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দু’দিন ব্যাপী জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলন আজ ৩ মে সকাল ৯ টায় মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে শুরু হয়েছে। এ সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সম্মেলন পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মোঃ শাহজাহান, এড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও কর্মপরিষদ সদস্য, জেলা ও মহানগরী আমীরবৃন্দ।
আমীরে জামায়াত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের পর দীর্ঘ ১৪ বছরে এ ধরনের প্রোগ্রাম করার সুযোগ পাইনি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আবার এই সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য মহান মনিবের দরবারে লাখো শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং তাদের সঙ্গীরা বাংলাদেশকে শাসন এবং শোষণ করেছেন। পুরো সময় জুড়ে তারা এই দেশের বিরোধী দল, মত এবং বিশেষভাবে ইসলামপন্থী জনগণের উপর বিভিন্ন পর্যায় তাণ্ডব চালিয়েছে। কমপক্ষে তিনটি গণহত্যা সংঘটিত করেছে। প্রথম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তৎকালীন বিডিআর হেডকোয়াটার পিলখানায়। যেখানে আমরা হারিয়েছি ৫৭ জন চৌকস দেশপ্রেমিক প্রতিশ্রুতিশীল সামরিক অফিসার। এর পরে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে, হেফাজতের আহ্বানে যে সমাবেশ হয়েছিলো সেই সমাবেশে রাতের বেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে গোটা অন্ধকারে নির্বিচারে মানুষগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। আর তৃতীয় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসের মধ্য দিনগুলো থেকে আগস্ট মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত। ফ্যাসিবাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা সহকর্মী, বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং আলেম-উলামা।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবাণীতে গত বছরের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। আপনারা সাক্ষী প্রথম তিনদিন কার্যত কোন সরকার ছিলো না। এ রকম পরিবর্তন যেসব দেশে সংঘটিত হয়েছে সেখানে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা পারিপার্শ্বিক এ ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং খুবই অনুভব করছিলাম জাতিকে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধৈর্য ধরার আহ্বান করা প্রয়োজন। আমরা ৫ আগস্ট রাতেই সে কাজটা করেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, এ পরিবর্তনের পর আমাদের প্রথম কাজ ছিলো শহীদ পরিবারের কাছে যাওয়া এবং দাঁড়ানো। দল হিসেবে নিশ্চই আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরেও মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা চেষ্টা করেছি শহীদ পরিবারের কাছে যাওয়ার। তাদেরকে সান্ত্বনা দেয়ার এবং একটা সংগঠন হিসেবে যতটুকু সম্ভব সেই সাপোর্টটুকু তাদেরকে আমরা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের সাপোর্টও তারা অনুগ্রহ করে গ্রহণ করেছে। এরপর আমাদের অগ্রাধিকার ছিলো যারা আহত এবং পঙ্গু হয়েছেন তাদের দিকে নজর দেয়া।
তিনি আরও বলেন, দেশে যদি অস্থিরতা বিরাজ করে, যদি দেশের অর্থনীতি মুখ থুবরে পড়ে তাহলে আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এজন্য এখানে নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের দায় রয়েছে। তবে পরিবর্তনকামী একটি গঠনমূলক দল হিসেবে জামায়াতের দায় অনেক বেশী। এজন্য আমরা সমসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে যারা হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, খুন, লুণ্ঠন ও অপহরণ করেছেন, জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন তাদেরও আমরা ন্যায্য বিচার দাবি করি। তারা যেন কোনভাবেই কোন ফাঁকফোকরে পার পেতে না পারে। আইনের আওতায় এনে তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবি আমরা করে আসছি এবং এ দাবি আমরা করতেই থাকবো। এ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা এরপরে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিলাম, এ সরকার গঠিত হয়েছে জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত কাজে সহযোগিতা করা। তাদের জনস্বার্থবিরোধী কোন কাজ আমাদের সামনে ধরা পড়লে আমরা সহযোগিতা করবো না, আমরা পরামর্শ দিবো, প্রতিবাদ করবো এবং ক্ষেত্র বিশেষে আবার প্রতিরোধ করবো।
তিনি বলেন, অবশ্যই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এই সুষ্ঠু এবং বস্তুনিষ্ঠতার স্বার্থে কতিপয় সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। এ বিষয় আমরা আমাদের সুপারিশমালা সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর কাছে পেশ করছি। আমরা সকল দলের প্রতি আহ্বান জানাবো রাজনীতি নিজের জন্য নয়। রাজনীতি দেশ এবং জনগণের জন্য। আমরা যত বেশী সহযোগিতা করবো ততো বেশী জাতি উপকৃত হবে। ততোটাই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে। ইতোমধ্যে আমরা বলেছি যে, অবশ্যই যারা অপরাধী তাদের বিচারটা দৃশ্যমান হোক জাতি এটা দেখতে চায়। এ স্বল্প সময় সব বিচার করা সম্ভব নয় এটা আমরাও বুঝি। কিছু বিচারতো করতে হবে। যাতে জাতির মনে আস্থা তৈরী হয়। যারা প্রধান অপরাধী তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে দৃশ্যমান বিচার জাতির সামনে অবশ্যই উপস্থাপন করতে হবে। আমরা সরকারের একটা দুর্বলতা লক্ষ্য করি, বিচারের ক্ষেত্রে আমরা আরো গতি চাই। সরকার বেশী তৎপর হয়ে এই কাজটা করবে, এটা আমরা দেখতে চাই। যদি এদের বিচার হয় তাহলে আগামী নির্বাচনেও কালো টাকা এবং পেশী শক্তির প্রভাব খাটাতে পারবে না। আর এ রকমের দুঃসাহস হয়তো কেউ দেখাবে না। কিন্তু বিচার যদি না হয় এর আশঙ্কা তো থেকেই যাবে। আমরা এই নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য এবং জনমতের শতভাগ প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আমাদের দেশের পার্লামেন্টকে কোয়ালিটিসম্পন্ন পার্লামেন্ট দেখতে চাই। এজন্য নির্বাচনকে পেশীশক্তি এবং কালো টাকার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থায় নির্বাচন হতে হবে। বিশ্বের ৬২টি দেশ এটা অনুসরণ করে। বেশীর ভাগ দেশ হচ্ছে উন্নত দেশ বলে যারা পরিচিত তারা সুফল পেয়েছে। এটা যারা একবার শুরু করেছে তারা আর বাদ দেয়নি। আমরা ট্রেডিশনাল নির্বাচন পদ্ধতি দেখেছি। তার ভিতরে সংসদের মধ্যে আইন প্রনেতা হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিরা লেখা দেখে যারা পড়তে পারেন না তারাও সংসদ সদস্য হয়েছে। তারা কি আইন রচনা করে বাংলাদেশের মানুষকে দিবেন? তারা কোন আইনটা সংস্কার সাধন করার মতো যোগ্যতা রাখেন? এজন্য আমরা বলেছি যে, আনুপাতিক হারে সেখাবে যাবে। যে যতো পার্সেন্ট ভোট পাবে সে ততো আসন পাবে। এতে করে কোন দলকে ছোট এবং বড় বলার কারো সাহস হবে না। দল ছোট হউক বড় হউক দল দলই এবং কোন দল কারো দয়ার পাত্র হবে না। তার নিজের দল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, অতিসম্প্রতি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিটি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর সুপারিশমালা সাবমিট করেছে। আমরা বিস্মিত, আমাদের বিদ্যমান কালচার তমদ্দুন এর সম্পূর্ণ বিপক্ষে। তারা কিছু সুপারিশমালায় এনেছেন এগুলো বিবেচনা করার প্রশ্নই আসে না। শুধু তাই নয় তাদের কিছু কিছু সুপারিশ আল্লাহর বিধানের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে পেশ করা হয়েছে। তাদের এই সুপারিশ গ্রহণ করলে কুরআন পরিবর্তন হয়ে যাবে। অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করে বলেছেন, কুরআন নাযিল করেছি আমি, রক্ষাও করবো আমি। এখানে একটা হরফ, নুকতাও কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এ বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা বলেছেন। ফেব্রুয়ারির শেষে এবং মার্চের তিন ভাগের দুই ভাগ সময় জুড়ে রোযা থাকবে, তার পরেই ঈদ। এই সময় কোন নির্বাচনের সময় নয়। দু’টি সময় আমরা নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত মনে করি। একটি হচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাস রোযা শুরুর আগে। আরেকটা হচ্ছে যদি কোন কারণে এই সময়ের ভিতরে সংস্কারগুলো এবং বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া জনমনে আস্থা সৃষ্টির পর্যায়ে না আসে তাহলে ম্যাক্সিমাম এপ্রিল পার হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর শহীদের রক্ত ও পঙ্গু ভাই বোনদের প্রতি সকলের সম্মান দেখানো উচিত ছিলো। কিন্তু কোন কোন দল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, তাদের নিজেদের সহকর্মীদেরকে সামাল দিতে। এই জন্য যেখানেই যাই এখন শুনতে হয় রেট আগের চেয়ে বেশি। কেন রেট আগের চেয়ে বেশি হবে? রেটই তো থাকবে না। সর্বত্রই কথা শুনতে হচ্ছে, কেন এমনটি শোনা যায়। চিহ্নিত অপরাধীদের ধরে পুলিশ থানায় নেয়ার আগেই তদবির থানায় চলে আসে। এই ধারা বন্ধ করতে হবে। স্বয়ং জামায়াতে ইসলামীর লোকেরাও যদি এটা করে মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে ঘৃণা করবে। এ কাজ যারাই করবে তাদেরকে মানুষ ঘৃণা করবে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে আমরা দেখতে পাচ্ছি গাজায় ফিলিস্তিনের উপর বছরের পর বছর জুলুম করা হচ্ছে। আমরা চাই এটার অবসান হোক। পার্শ্ববর্তী দেশসহ যেখানে ছুতোনাতায় বিশেষ করে ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে জুলুম করা হয়। এটা বন্ধ করা হোক।
তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আমরা একটা মজলুম দল। যুগে যুগে আমাদের উপর বিভিন্ন পক্ষ জুলুম করেছে। আমরা কোনও প্রতিশোধ নিতে চাই না। তবে আমরা যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, নিহত হয়েছি, আহত হয়েছি, গুমের শিকার হয়েছি অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, সেই জায়গাগুলোতে অবশ্যই আমরা আইনের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রাখি এবং আমরা চাইব।
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরসহ স্বাধীনতার পর থেকে যারা দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পাঁচার করেছেন, এদের সকলের অপকর্মের শ্বেতপত্র জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি এগুলোর সাথে রাজনীতির কালো হাত ছিল, নাহলে এত বড় অপরাধ তারা করতে পারতো না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বাংলাদেশ থেকে গত সাড়ে ১৫ বছরে ২৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আমরা চাই পাঁচারকৃত সকল টাকা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেয়া হবে এবং জনকল্যাণে সেটা ব্যয় হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিক বন্ধুগণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, আপনারা এই জাতির সন্তান, এই জাতির বিবেক, আয়না। আপনাদের দর্পণে সেই চিত্রগুলো তুলে ধরুন এবং আপনারাও এই কাজে সহযোগিতা করুন। তাহলে দেশ আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। আপনারা দায়িত্বশীল আচরণ করে সাহসিকতার সাথে এগিয়ে আসবেন সেই প্রত্যাশা আমরা রাখতে চাই।
আমরা মহান রবের দরবারে দোয়া করি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুরআন ভিত্তিক যে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র করতে চায় আল্লাহ যেন সেই কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার পথে আমাদেরকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সাহায্য করেন। আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাতিগঠনের যাত্রাপথে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার তওফিক দান করুন।